Wednesday, April 18, 2012

শিশুপাচার মামলায় সাবেক ডিআইজি ও তার স্ত্রীর যাবজ্জীবন


শিশুপাচার মামলায় বহুল আলোচিত সাত যমজ সন্তানের মা-বাবা বলে দাবিদার পুলিশের সাবেক ডিআইজি আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী আনোয়ারা রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার চার নম্বর
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আরিফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অতিরিক্ত প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়া হয়।

মামলার প্রধান আসামি পুলিশের সাবেক ডিআইজি আনিসুর রহমান জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন। অপর আসামি তার স্ত্রী আনোয়ারা রহমান আদালতে হাজির ছিলেন। তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

২০০৬ সালে আনিসুর রহমানের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ভাড়া বাড়িতে সাত জোড়া যমজ শিশু থাকার খবর প্রকাশিত হলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, ওই দম্পতি পাচারের জন্য ওই শিশুদের নিজেদের বাড়িতে রেখেছেন।

আনিসুর দম্পতি সে সময় নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘‘ওই ১৪ জনই তাদের সন্তান।’’ যদিও সে সময় সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয়, এই শিশুদের সাত জনের জন্মের পাঁচ বছর আগেই আনিসুরের স্ত্রী আনোয়ারা রহমান স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন। জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্য সঠিক হয়ে থাকলে আনোয়ারা ওই শিশুদের মধ্যে তিনজনকে জন্ম দেন আট মাস সময়ের মধ্যে।

ওই সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট এলিনা খান ২০০৬ সালের ২ জুন রাজধানীর বাড্ডা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে তিনি একটি এজাহার দায়ের করেন, যা ২০০৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মামলা হিসাবে গ্রহণ করে আদালত।

এজাহারে বলা হয়, ‘‘ওই দম্পতির ১৪ সন্তানের  মধ্যে সাতজন একেবারেই অল্প বয়সী। আসামিরা শিশু রহস্যের ঘটনায় সঠিক তথ্য সরবরাহ না করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম তথ্য দেয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে শিশুরা তাদের নয়। আসামিদের জীবন, র্কম ও ইতিহাস বলে, তারা ওই শিশুদের বিদেশে পাঠানো বা পাচার বা ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য বেআইনিভাবে বিভিন্ন শিশু হাসপাতাল, ক্লিনিক বা আসল অভিভাবকদের হেফাজত থেকে নিজেদের জিম্মায় রেখেছেন।’’

২০০৬ সালের ১০ নভেম্বর গোয়েন্দা পুলিশের র্কমর্কতা হুমায়ুন কবীর এ মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে অভিযুক্তদেরকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করেন। মামলার ঘটনাটি নিছক ‘তথ্যগত’ ভুল বলে মন্তব্য করা হয় তার প্রতিবেদনে।

তবে মামলার বাদী ওই প্রতিবেদনের ব্যাপারে আপত্তি জানালে আদালতে মামলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, অল্পবয়সী সাত শিশুর মধ্যে জান্নাতুল মারিয়াম নাজিফা মামলা চলাকালে মারা যায়। অন্যদিকে জান্নাতুল তানিসা রহমান এবং চার ছেলে শিশু আইমান রহমান আনিস (উসহাম), নাসেফ আকন আনিস, আনাস আকন আসিন ও দাইয়ান রহমান (ওসাত) জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির আগারগাঁওয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে ‘প্রশান্তিতে’ রয়েছে।

No comments:

Post a Comment